বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তের অন্তত ৬৮টি স্থানে ভারতের কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিচ্যুতি পাওয়া গেছে, যা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত কর্তৃপক্ষের যৌথ নির্দেশিকা অমান্য করে ভারত সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতরে অনুমতিবিহীন নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বেড়া নির্মাণ, সড়ক তৈরি, সীমান্ত পোস্ট স্থাপন, সেতু, কালভার্ট ও বাঁধের মতো প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণ।
বিশেষ করে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের সশস্ত্র সদস্যের উপস্থিতি থাকার নিয়ম না থাকলেও, বেড়া নির্মাণের অজুহাতে বিএসএফ সদস্যদের নিয়মিত টহল ও অবস্থান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া, নির্দিষ্ট নকশা অনুসরণ না করে অনেক স্থানেই শূন্যরেখার খুব কাছে বুলেটপ্রুফ বেড়া ও ঢালাই করা তারের জাল স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আরও দূরে বেড়া নির্মাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুমোদন ছাড়াই সিসিটিভি ক্যামেরা, সার্চলাইট ও প্রবেশদ্বার স্থাপনের বিষয়টিকেও ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করছে ঢাকা।
দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের ঠিক আগ মুহূর্তে এই প্রতিবাদলিপি পাঠানো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও বিজিবি-বিএসএফের এই বৈঠক সীমান্তে অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) ও নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্র করে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তবে এবার অবকাঠামো সংক্রান্ত বিতর্ক আলোচনাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ৬৮টি চিহ্নিত স্থান এবং চলমান ৫টি প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা জানিয়েছে, বিদ্যমান বিচ্যুতিগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ভারত কোনো অবস্থাতেই কাজ পুনরায় শুরু করতে পারবে না। এছাড়া, যেসব স্থানে এখনো বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি, সেখানে কাজ শুরুর আগে অবশ্যই যৌথ পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে এবং বৈঠকের কার্যবিবরণী চূড়ান্ত করতে হবে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের এই ধরনের একতরফা কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ।





