২০২৫ সালের শেষ দিনটিতে কার্যত বরফ হয়ে যাওয়ার দশা শহর কলকাতার। আজ বছরের শেষ সকালে আলিপুরের পারদ নামল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৮ ডিগ্রি কম। হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর অর্থাৎ গত ৫ বছরের মধ্যে ডিসেম্বর মাসে আজই শীতলতম দিন। গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা কমেছে দেড় ডিগ্রিরও বেশি। উত্তুরে হাওয়ার অবাধ প্রবেশে শুধু কলকাতাই নয়, গোটা দক্ষিণবঙ্গই এখন জাঁকিয়ে শীতের কবলে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকালের দিকে কুয়াশা থাকলেও দুপুরের পর থেকে আকাশ পরিষ্কার হবে। তবে হাড়কাঁপানো শীতের এই দাপট বেশিদিন স্থায়ী হবে না। ১ জানুয়ারি অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আপাতত শীতের এই ঝোড়ো ইনিংস কিছুটা ধীর হবে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, ৫ জানুয়ারির পর থেকে পুনরায় জাঁকিয়ে শীত ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও বেশ রোমাঞ্চকর। দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আজ থেকে আগামী তিন দিন পাহাড়ে হালকা বৃষ্টি ও তুষারপাতের (Snowfall) জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের জন্য এটি খুশির খবর হলেও ঘন কুয়াশার কারণে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গিয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণেই মাঝপথে থমকে যেতে পারে জাঁকিয়ে শীত। নতুন বছরের শুরুতে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকতে পারে এবং কুয়াশার দাপট বাড়বে। তবে যারা পিকনিক বা বছরের শুরুতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া মনোরম থাকলেও কনকনে ঠান্ডা থেকে সাময়িক বিরতি মিলবে। উত্তর ও দক্ষিণ— দুই বঙ্গেই আজ এবং কাল কুয়াশার হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।