১০ দিনের সময়সীমা শেষ! হরমুজ প্রণালী না খুললে বড় ধ্বংসের মুখে ইরান? উত্তাল বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে গেল? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১০ দিনের চরম সময়সীমা (ডেডলাইন) সোমবার শেষ হতে চলেছে। আর এর পরেই মঙ্গলবার থেকে ইরানের ওপর বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তাঁর সাফ কথা— ইরান যদি অবিলম্বে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত স্বাভাবিক না করে, তবে আমেরিকার নিশানায় থাকবে সে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বড় বড় সেতু।

‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ ও ‘ব্রিজ ডে’: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান যদি পিছু না হটে তবে তাদের “নরকের মতো পরিস্থিতি” ভোগ করতে হবে। ট্রাম্প এই সম্ভাব্য অভিযানের নাম দিয়েছেন “পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে” এবং “ব্রিজ ডে”। এর আগে কারাজ শহরের ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিশাল ‘বি১ ব্রিজ’ ধ্বংস হওয়ার স্মৃতি এখনও টাটকা, যা তেহরানকে বড়সড় অর্থনৈতিক ধাক্কা দিয়েছিল।

ইরানের কড়া জবাব: ট্রাম্পের এই হুমকিকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনপরিষেবা কেন্দ্র বা পাওয়ার প্ল্যান্টে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। একইসঙ্গে তারা পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হামলা হলে ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

ব্যর্থ হয়েছে আলোচনার সব চেষ্টা: গত ১০ দিনে পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও বরফ গলেনি। কোনো দেশই নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়তে নারাজ।

কেন এই হরমুজ প্রণালী নিয়ে এত লড়াই? বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যায়। ইরান এই পথ বন্ধ রাখলে বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার দেখা দেবে এবং হু হু করে বাড়বে দাম, যা বিশ্ব অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে।

পেশাদার বিশ্লেষণ: আগামী ২৪ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর আমেরিকা কি সত্যিই ড্রোন বা মিসাইল হামলা শুরু করবে, নাকি এটি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল— তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy