কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি, কিন্তু সঠিক রাস্তার অভাবে সেই স্বপ্ন অনেকের কাছেই অধরা থেকে যায়। তবে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় লোকসান বা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি ছাড়াই কোটি টাকার তহবিল গড়া সম্ভব। আর এই অসাধ্য সাধনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সরকারি প্রকল্প পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)-এর মধ্যে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding Interest) সঠিক ব্যবহারে আপনিও হতে পারেন কোটিপতি।
কিভাবে কাজ করে এই জাদু? অনেকেই মনে করেন, কোটিপতি হতে গেলে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতে হয়। কিন্তু পিপিএফ-এর অংক বলছে অন্য কথা। বর্তমানে এই প্রকল্পে ৭.১ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। ধরা যাক, আপনি প্রতিদিন মাত্র ৪১০ টাকা করে সঞ্চয় করছেন। অর্থাৎ মাসে আপনার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১২,৫০০ টাকা। বছরে যা দাঁড়ায় ১.৫ লক্ষ টাকা (পিপিএফ-এ বছরে সর্বোচ্চ এই টাকাই জমা দেওয়া যায়)।
১৫ বছরের প্রাথমিক মেয়াদে এই টাকা জমালে সুদে-আসলে আপনার হাতে আসবে ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি। কিন্তু আসল খেলা শুরু হবে এরপর। পিপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, আপনি ৫ বছর করে যতবার খুশি এই বিনিয়োগের মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।
২৫ বছরের ফর্মুলা: যদি আপনি আপনার বিনিয়োগকে আরও ১০ বছর অর্থাৎ মোট ২৫ বছর পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, তবেই কেল্লাফতে!
আপনার মোট বিনিয়োগ হবে: ৩৭.৫ লক্ষ টাকা।
জমে থাকা সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে: প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা।
২৫ বছর শেষে আপনার মোট তহবিলের পরিমাণ হবে: ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা।
কেন বিনিয়োগ করবেন পিপিএফ-এ? ১. সম্পূর্ণ নিরাপদ: সরকারি গ্যারান্টি থাকায় টাকা ডুবে যাওয়ার কোনও ভয় নেই। ২. আয়কর ছাড়: এখানে বিনিয়োগ করলে আয়করের ৮০সি ধারা অনুযায়ী ছাড় পাওয়া যায়। এমনকি ম্যাচুরিটির সময় প্রাপ্ত সম্পূর্ণ টাকা এবং সুদের ওপর কোনও ট্যাক্স দিতে হয় না। ৩. চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা: বছরের পর বছর সুদের ওপর সুদ যোগ হয়ে আপনার সামান্য সঞ্চয়কে বিশাল আকার দেয়।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জীবনে যত দ্রুত সম্ভব সঞ্চয় শুরু করা উচিত। ২০ বা ২৫ বছর বয়স থেকে এই বিনিয়োগ শুরু করলে অবসরের অনেক আগেই আপনি কোটি টাকার মালিক হতে পারবেন। নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং কোনো ঝুঁকি ছাড়া বড় মূলধন গড়তে পিপিএফ হতে পারে আপনার সেরা হাতিয়ার।





