মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৬০% এলপিজি আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে সৌদি আরব ও কাতার থেকে এই পথ দিয়েই। আমদানিতে বাধা আসায় দেশে রান্নার গ্যাসের মজুত দ্রুত কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ মার্চ রাতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে।
সরকারের নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলি:
-
এসমা (ESMA) প্রয়োগ: জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে তেল শোধনাগারগুলির ওপর এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে সংস্থাগুলি সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য।
-
উৎপাদনে অগ্রাধিকার: এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন এবং বিউটেন এখন থেকে অন্য কোনো রাসায়নিক বা পেট্রোকেমিক্যাল (যেমন প্লাস্টিক বা পলিমার) তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না। এই দুটি গ্যাসকে সম্পূর্ণভাবে রান্নার গ্যাস উৎপাদনে ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে সরবরাহ: সমস্ত বেসরকারি ও সরকারি শোধনাগারকে উৎপাদিত গ্যাস শুধুমাত্র ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), এইচপিসিএল (HPCL) এবং বিপিসিএল (BPCL)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থাগুলিকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত গ্যাস পৌঁছায়।
-
বিকল্প উৎস: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০-২৫ দিনের রান্নার গ্যাসের মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ বজায় রাখাই হবে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত না করার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি।