বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সবেমাত্র ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই ভোটে লড়াইয়ের বড় ঘোষণা করলেন সেদেশের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এমএম নসিরুদ্দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণের ঘোষণা করেন। আওয়ামী লিগকে ব্রাত্য রেখেই ইউনুস সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং গণভোট একই বুথে পৃথক ব্যালটে হবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরদিনই শুক্রবার সকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি নিজে ঢাকা-১০ আসন থেকে ভোট ময়দানে লড়ছেন। তবে এই ঘোষণার সঙ্গে রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ টুইস্ট: আসিফ কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে নয়, বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই ভোটে লড়ছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঢাকা-১০ আসনটি বেশ হাইপ্রোফাইল এলাকা। এই আসনের আওতায় রয়েছে ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, নিউ মার্কেট এবং কামরাঙ্গীর চরের একাংশ। ফলত, আসিফের এই লড়াই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
‘এই লড়াই সহজ নয়’
এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আসিফ তাঁর লড়াইয়ের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, ১৭ বছর পর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা নির্ধারণ করার সুযোগ এসেছে।
আসিফ লেখেন: “নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, স্বপ্নের বাস্তবায়ন কঠিন, তবে অসম্ভব নয়… যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিভাজনের রাজনীতি নয়, প্রতিটি নাগরিকের জন্য জনকল্যাণমুখি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, নতুন সামাজিক, রাজনৈতিক ও জিওপলিটিক্যাল বন্দোবস্তের বাস্তবায়ন জরুরি।”
তবে তিনি নিজের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেছেন: “বড় কোনো রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা, অসংখ্য নিবেদিত কর্মী, প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় অর্থ— কোনোটাই আমার নেই।”
একসময় জল্পনা ছিল যে তিনি এনসিপি বা গণঅধিকার পরিষদে যোগ দিয়ে বিএনপি জোটের প্রার্থী হতে পারেন। সেই যাবতীয় জল্পনায় জল ঢেলে, ইউনুস সরকারের প্রাক্তন এই উপদেষ্টা ভোটের ময়দানে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন।