২৯৪ আসনে লড়েও মাত্র ২টিতে জয় কংগ্রেসের, জামানত বাজেয়াপ্ত প্রদেশ সভাপতির!
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত মুছে যাওয়ার পথে শতাব্দীপ্রাচীন দল কংগ্রেস। ‘ইন্ডি’ জোটের জটিলতা আর শাসক-বিরোধী দ্বিমুখী লড়াইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে রাজ্যে কংগ্রেসের পারফরম্যান্স এখন স্রেফ একটি সংখ্যায় এসে ঠেকেছে। ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েও মাত্র ২টিতে জয়— এই পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না খোদ কট্টর কংগ্রেস সমর্থকরাও।
অধীর দুর্গে ধস: সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে। যেখানে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ‘রবিন হুড’ ভাবমূর্তি নিয়ে রাজত্ব করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী, সেখানেই এবার মুখ থুবড়ে পড়ল কংগ্রেসের বিজয়রথ। জেলা রাজনীতির ‘বেতাজ বাদশা’ হিসেবে পরিচিত অধীর চৌধুরী নিজের কেন্দ্রেই পরাজিত হয়েছেন। শুধু পরাজয় নয়, ভোটের শতাংশের বিচারে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার মতো নজিরবিহীন লজ্জার মুখে পড়েছেন তিনি।
দুই সংখ্যায় থমকে যাওয়া লড়াই: পুরো রাজ্যে কংগ্রেসের স্কোরকার্ড এখন মাত্র ২। মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি পকেটে লড়াই দিলেও বাকি রাজ্য জুড়ে কংগ্রেসের অস্তিত্ব কার্যত খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ আর বিজেপির ‘হিন্দুত্ব’— এই দুই মেরুকরণের লড়াইয়ে কংগ্রেসের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
কেন এই ভরাডুবি? দলীয় কোন্দল, স্পষ্ট রাজনৈতিক লাইনের অভাব এবং নিচুতলায় সংগঠনের দুর্বলতাকে এই হারের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যে দল ২৯৪টি আসনে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে না, তারা কেন সব আসনে প্রার্থী দিয়ে ভোট কাটাকাটির রাজনীতিতে নামল? এই হারের পর প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরেও ইস্তফার দাবি জোরালো হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কী? বিধানসভার অন্দরে কংগ্রেসের কণ্ঠস্বর এখন ক্ষীণতম। এই ফলাফল শুধুমাত্র একটি নির্বাচন নয়, বরং বাংলায় কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এরপর ঘুরে দাঁড়ানো কংগ্রেসের পক্ষে হিমালয় জয়ের সমান হবে।
দিল্লি থেকে হাইকম্যান্ডের কোনো কড়া বার্তা আসে না কি বঙ্গ কংগ্রেসের নেতৃত্বে বড়সড় বদল ঘটে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





