দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে ফের নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হাকিমপুর চেকপোস্টে গত কয়েকদিন ধরে ১৫২ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশের ফেরার জন্য অপেক্ষায় দিন গুনছেন। শুধুমাত্র এই ১৫২ জনই নয়, বর্তমানে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে সর্বমোট ২৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের সকলকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং বায়োমেট্রিক তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যতদিন না এই নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন তাঁদের সীমান্ত পার করে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব, তাই এই যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার ঢিলেমি দেওয়ার অবকাশ নেই।
বর্তমানে চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। যারা হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন, তাঁদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৫২ জন নাগরিকের এই অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে, কারণ বায়োমেট্রিক তথ্যের সাথে তাঁদের দেওয়া নথিপত্রের মিল খুঁতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি যদি তার নথিপত্র প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁর বিষয়ে আইনি জটিলতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার অবৈধ পারাপারের এই ঘটনা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। যতক্ষণ না এই ২৭৩ জনের পরিচয় এবং নথিপত্রের সত্যতা প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সীমান্তে বিশেষ সতর্কতা বহাল থাকবে। এখন দেখার বিষয়, নথিপত্র যাচাইয়ের এই জটিল প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগে এবং কত দ্রুত তাঁদের চূড়ান্তভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।





