বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে”— বিরোধীদের এই ক্রমাগত আক্রমণকে নস্যাৎ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, যারা সমালোচনা করছেন তারা একবার হাওড়া থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গেলেই বুঝতে পারবেন রাজ্যে কত নতুন শিল্প সংস্থা এসেছে এবং কত কর্মসংস্থান হয়েছে। রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের যে জোয়ার এসেছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই বলে দাবি তাঁর।
কর্মসংস্থান ও শিল্পের বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী এদিন ভিন রাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাইরে যারা কাজ করছেন, তারা রাজ্যে ফিরে আসুন। এখানে কাজের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।” শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, ব্যবসা করতে গিয়ে কোনও সমস্যায় পড়লে সরাসরি মুখ্যসচিব, শিল্পসচিব বা নবান্নে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। রাজ্যে শান্তি থাকলে তবেই ব্যবসা বাড়বে, আর সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। একইসঙ্গে বনধের রাজনীতির কড়া বিরোধিতা করে তিনি জানান, রাজ্যে কোনওভাবেই বনধ হতে দেবেন না তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মন্দিরের উন্নয়ন: উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটনেও সরকারের সাফল্যের খতিয়ান দেন মমতা। শিলিগুড়িতে বিশাল শিবমূর্তি ও ২৪টি শিবলিঙ্গ নিয়ে মহাকাল মন্দির এবং দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নয়, সবাই ভারতীয়। আমরা বগলামুখী মন্দিরও করেছি। যেখানে অনুরোধ এসেছে, সেখানেই মন্দির বা মসজিদের উন্নয়নে সাধ্যমতো কাজ করা হয়েছে।”
রাজনৈতিক সমীকরণ ও দিল্লি সফর: রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যে উত্তেজনা ও আত্মহত্যার খবর আসছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত। সিঙ্গুরে সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদির সভার পাল্টা হিসেবে আগামীকাল বুধবার সেখানেই সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর থেকেই তিনি সরাসরি কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে দিল্লি পাড়ি দেবেন। বাজেটের সময় এই দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংসদে তৃণমূলের রণকৌশল ঠিক করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।