হাইকোর্টের ডেডলাইনেই ভবানীভবনে অভিষেক! সই জালিয়াতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ কি তিনিই?

কলকাতা হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনেই আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভবানীভবনে সিআইডি-র সদর দপ্তরে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার বিধায়কদের সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।

কেন এই জেরা? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের যে বৈঠক হয়েছিল, সেই বৈঠকের ‘রেজোলিউশন বুক’ বা কার্যবিবরণী খাতাটি সিআইডি উদ্ধার করতে চায়। অভিযোগ উঠেছে, ওই বৈঠকে অনেক তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না, অথচ তাঁদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার আবেদন জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। দলের তৎকালীন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের সই জাল হওয়ার এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আজ তাঁকে মুখোমুখি জেরা করছেন সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) আধিকারিকরা।

এতদিনের টানাপোড়েন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এটি ছিল চতুর্থ তলব। এর আগে অন্তত তিনবার শারীরিক অসুস্থতা ও কলকাতার বাইরে থাকার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকী, সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিয়ে এলেও সাড়া মেলেনি। শেষমেশ হাইকোর্ট তাঁকে ২ সপ্তাহের রক্ষাকবচ দিলেও, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার শর্ত বেঁধে দেয়। সেই শর্ত মেনেই আজ দিল্লি থেকে ফিরে সরাসরি ভবানীভবনে হাজিরা দেন তিনি।

তদন্তের পরবর্তী মোড়: যেসব বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের অনেকের সাথেই ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। সেই সব জবানবন্দি এবং আজকের জেরা—এই দুটির মধ্যে কোনো গরমিল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সিআইডি আধিকারিকরা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে এই জেরার পর্ব কতদূর এগোয় এবং এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে কোনো বড় বিস্ফোরণ ঘটে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy