হয় চুক্তি না হয় ধ্বংস! হরমুজ প্রণালী নিয়ে হার্ডলাইনে ট্রাম্প, পরমাণু যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবার চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— হয় অবিলম্বে একটি ‘যুক্তিসঙ্গত’ চুক্তিতে আসতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য খুলে দিতে হবে, নয়তো ভয়াবহ সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে তেহরানকে। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে এক বিস্ফোরক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত সমাধান না হলে ওয়াশিংটন ইরানের তেল পরিকাঠামো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে।

ট্রাম্পের নিশানায় যা যা আছে: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বার্তায় সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের তেলের খনি, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ (Kharg Island) এবং পানীয় জল সরবরাহকারী লবনাক্ততা দূরীকরণ কেন্দ্রগুলি (Desalination plants) এবার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, গত ৪৭ বছরে ইরানের ‘সন্ত্রাসের রাজত্বে’ যে সকল মার্কিন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, এটি হবে তারই প্রতিশোধ।

আলোচনা বনাম অস্বীকার: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে এবং তাতে ‘দারুণ অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে তেহরান সরাসরি এই আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রস্তাবগুলি ‘অবাস্তব ও অযৌক্তিক’। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও ইরান সাফ জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসবে না।

সামরিক তৎপরতা ও তেলের বাজার: ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে প্রায় ২,৫০০ মার্কিন ম্যারিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সমসংখ্যক সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। চাপের মুখে পড়ে ইরান সোমবার ২০টি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিলেও পরিস্থিতি এখনও অগ্নিগর্ভ। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে আমেরিকা খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারে। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy