নয়াদিল্লি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজ পথ, ডাইভারসিটি ভিসা (DV) লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না ভারতীয়রা। এর কারণ হিসেবে উচ্চ অভিবাসন হারকেই চিহ্নিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
কেন বাদ পড়লো ভারত?
মার্কিন সরকারের এই কর্মসূচির অধীনে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫০,০০০ অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) দেওয়া হয়, যা লটারির মাধ্যমে সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত, যেখান থেকে বিগত পাঁচ বছরে আমেরিকায় অভিবাসনের হার কম।
কিন্তু ভারত এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। অভিবাসন তথ্যানুযায়ী, ভারত গত পাঁচ বছরে ৫০,০০০-এর বেশি নাগরিককে আমেরিকায় পাঠিয়েছে।
২০২১ সালে: ৯৩,৪৫০ জন ভারতীয় আমেরিকায় অভিবাসন করেন।
২০২২ সালে: এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১,২৭,০১০ জন।
২০২৩ সালে: ৭৮,০৭০ জন ভারতীয় আমেরিকায় পাড়ি দেন।
বিগত বছরগুলোর এই বিপুল সংখ্যক অভিবাসনের ফলেই ভারত এই লটারি থেকে অযোগ্য (Disqualified) ঘোষিত হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ও পাকিস্তান-এর মতো দেশগুলোকেও এই লটারি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয়দের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার বিকল্প পথ কী?
ডিভি লটারি বন্ধ হওয়ার কারণে, ভারতীয়দের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের পথ আরও সীমিত হয়ে গেল। তবে কিছু বিকল্প পথ এখনও খোলা রয়েছে:
১. H-1B ভিসা রূপান্তর: বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে থাকা H-1B কাজের ভিসা থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা। ২. পরিবার-ভিত্তিক স্পন্সরশিপ: আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ড হোল্ডারের নিকটাত্মীয় হিসেবে আবেদন করা। ৩. বিনিয়োগ-ভিত্তিক অভিবাসন: EB-5-এর মতো ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা। ৪. আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম (Asylum): বিশেষ পরিস্থিতিতে এই পথে আবেদন করা।
অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে অভিবাসন নীতি কঠোর করার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও অনুভূত হচ্ছে। সেই সময় থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী অভিবাসনের পথগুলো ধীরে ধীরে আরও কঠোর হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন শুধু ছাত্র ভিসার নীতিই কঠোর করেনি, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে এমন আবেদনকারীদের গভীরভাবে স্ক্রিনিং করার জন্য কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছিল।
এছাড়াও, সম্প্রতি H-1B ভিসা আবেদনের জন্য ১ লক্ষ ডলার (প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা) ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে উচ্চ বেতনপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই নিয়ম লাগু হলে পড়ুয়া এবং নতুন কর্মজীবনে প্রবেশকারীদের জন্য আমেরিকায় যাওয়া আরও কঠিন হবে।