স্বামী সমর্থের জেরায় বিস্ফোরক তথ্য! যৌতুকের বলি কি অভিনেত্রী ত্বিষা? সিবিআইয়ের নজরে এখন কী?

অভিনেত্রী তথা মডেল ত্বিষা শর্মার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত রহস্যের কিনারা করতে এবার আসরে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোপাল পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার বুঝে নিয়ে নতুন করে এফআইআর দায়ের করল সিবিআই। গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে ৩৩ বছরের এই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনায় খুনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

তদন্তকারীদের দাবি, গত ১০ দিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর পুলিশের জালে ধরা পড়েন ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং। বর্তমানে তিনি সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। জেরার মুখে দাঁড়িয়ে সমর্থ দাবি করেছেন, বিয়ের শুরুর দিকে সব স্বাভাবিক থাকলেও, ১৭ এপ্রিলের পর থেকে সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ে। ত্বিষার অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং পরবর্তীকালে দিল্লি যাওয়া নিয়ে বিবাদের প্রসঙ্গ তুলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন তিনি। তবে সমর্থে’র দেওয়া বয়ান তাঁর মা তথা প্রাক্তন জেলা বিচারক গিরিবালা সিংয়ের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তদন্তকারীদের মনে আরও সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআর থেকে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় থেকেই গিরিবালা সিং পণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে পণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো ত্বিষার ওপর। ইতিমধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কঠোর ধারা এবং পণনিষেধ আইনে মামলা রুজু হয়েছে। সিং পরিবার অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ত্বিষাকে ‘মাদকাসক্ত’ বলে বদনাম করার চেষ্টা করছে বলে খবর।

তদন্তের স্বার্থে এই মামলা অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রথম ময়নাতদন্তে ‘অ্যান্টিমর্টেম হ্যাঙ্গিং’ বা জীবিত অবস্থায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। এই প্রেক্ষিতেই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লির এইমসের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর পর টানা এক সপ্তাহ সমর্থ মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে জব্বলপুরে আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁকে কারা আশ্রয় দিয়েছিল, তা এখন সিবিআইয়ের প্রধান লক্ষ্য। শনিবার সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, একজন তরুণীর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। উভয় পরিবারকেই সংবাদমাধ্যমে অতিরিক্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এখন সিবিআইয়ের নতুন তদন্তের জাঁতাকলে পড়ে এই রহস্যের কিনারা কতটা দ্রুত হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy