শৃঙ্খলার পাঠ দিতে গিয়ে মানবিকতার সব সীমা লঙ্ঘন করলেন এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। স্কুলে জুতো পরে না আসায় একদল পড়ুয়াকে গলায় ‘জুতোর মালা’ পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। এই অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, পড়ুয়াদের মধ্যে নিয়মবর্তিতা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষামহল।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে কীভাবে তিনি ছোট ছোট শিশুদের এভাবে জনসমক্ষে অপমান করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক পড়ুয়াই দারিদ্র্যের কারণে জুতো কিনে উঠতে পারে না, সেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এই ধরনের শাস্তি দেওয়াকে ‘বর্বরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন শিশু অধিকার কর্মীরা। আক্রান্ত পড়ুয়ারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট স্কুলের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, এই ধরনের ঘটনা শিশু অধিকার আইনের পরিপন্থী। শিক্ষাক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক কোনো ধরনের হেনস্থাই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।