কলকাতার স্বনামধন্য বি সি রায় শিশু হাসপাতালের অন্দরে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলো এক একরত্তি শিশুকে। যে চিকিৎসকদের হাতে প্রাণ রক্ষার দায়িত্ব, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার অপারেশন থিয়েটারের (OT) ভেতরে শিশুকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ তুলল পরিবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হাসপাতাল চত্বর। পরিবারের দাবি, শিশুর শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে পেট ও মুখে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
জানা গিয়েছে, বাড়িতে থাকাকালীন গেটের একটি অংশ ভেঙে শিশুর পায়ের ওপর পড়ে যায়। এতে তার আঙুলে গুরুতর চোট লাগে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা শিশুটিকে দ্রুত বি সি রায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের ৭ নম্বর ঘরে এক অধ্যাপক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর জখম আঙুলে সেলাই করার প্রয়োজন বলে জানান চিকিৎসকরা। সেই উদ্দেশ্যেই শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগের তির চিকিৎসকদের দিকে:
পরিবারের অভিযোগ, অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার পরই বদলে যায় চিকিৎসকদের ব্যবহার। অভিযোগ উঠেছে যে, সেলাই করার সময় শিশুটিকে শান্ত করার বদলে কর্তব্যরত কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স মিলে তাকে মারধর করতে শুরু করেন। পরিবারের দাবি, শিশুটির মুখে ও পেটে আঘাত করা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ পর শিশুটি যখন বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তার শরীরে মারধরের চিহ্ন দেখে আঁতকে ওঠেন বাবা-মা।
হাসপাতালের সাফাই:
যদিও এই মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বি সি রায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্রিন্সিপাল দিলীপ কুমার পাল জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তাঁর দাবি, “অপারেশন থিয়েটারে কাজ করার সময় শিশুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুধু জাপটে ধরা হয়েছিল, মারধর করা হয়নি।” হাসপাতালের এই যুক্তিতে ক্ষোভ আরও বেড়েছে পরিবারের। এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিশুর স্বজনরা।
তদন্তের আশ্বাস:
হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ সন্দীপ সামন্ত জানিয়েছেন, একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে ঠিক কী ঘটেছিল। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের কঠোর শাস্তির দাবিতে অনড় পরিবার। প্রশাসনের কাছেও সুবিচারের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। খাস কলকাতার এক বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে এই ধরনের অভিযোগে এখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





