লোকসভা ভোটের মুখে এবার বাঙালির আবেগ এবং সেনায় বীরত্বের ইতিহাসকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রশ্ন ছুড়ে তিনি জানতে চাইলেন, ভারতের সেনাবাহিনীতে অন্যান্য রাজ্যের নামে রেজিমেন্ট থাকলেও কেন আজও ‘বেঙ্গল রেজিমেন্ট’ ব্রাত্য?
আবেগের তাস ও সেনায় বাঙালির লড়াই: এদিন একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, দেশ স্বাধীন করতে বা দেশের সীমানা রক্ষায় বাঙালির অবদান অনস্বীকার্য। শিখ, জাঠ বা রাজপুতদের মতো নিজস্ব রেজিমেন্ট থাকলেও বাংলার নামে কেন রেজিমেন্ট নেই, তা নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। এই দাবি তুলে তিনি প্রকারান্তরে বাঙালির আত্মমর্যাদার ইস্যুটিকে উসকে দিয়েছেন।
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ: শুধুমাত্র সেনাবাহিনী নয়, দুর্নীতির ইস্যুতেও গেরুয়া শিবিরকে একহাত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ:
টাকা তোলার অভিযোগ: “সব জায়গা থেকে ওরা টাকা তুলছে। সেই টাকার কত অংশ দিল্লিতে যাচ্ছে, তা সবাই জানে।”
ভোগী বনাম ত্যাগী: বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা নিজেদের ত্যাগী বলে দাবি করে, কিন্তু আসলে ওরা চরম ভোগী!”
দিল্লিকে সরাসরি নিশানা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্রের সরকার বাংলার প্রতি বঞ্চনা করছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখা হয়েছে, অথচ দুর্নীতির প্রশ্নে বিজেপি নিজে ধোয়া তুলসী পাতা নয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বেঙ্গল রেজিমেন্ট’-এর দাবি তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত জাতীয়তাবাদের আঙিনায় দাঁড়িয়ে বাঙালির ভাবাবেগকে এককাট্টা করতে চাইছেন, যা ভোটের বৈতরণী পার হতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।





