সেই অভিশপ্ত দ্বীপের গোপন কুঠুরিতে কী হত? স্থপতির বয়ানে এপস্টাইনের ‘ভয়াবহ’ বাঙ্ক বেডের রহস্য ফাঁস

নাম তার ‘লিটল সেন্ট জেমস’। কিন্তু গোটা বিশ্ব একে চেনে এক অভিশপ্ত দ্বীপ হিসেবে। কোটিপতি জেফরি এপস্টাইনের সেই ব্যক্তিগত দ্বীপে প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে বছরের পর বছর ধরে চলেছে নারকীয় যৌন কেলেঙ্কারি। এবার সেই দ্বীপের অন্দরমহলের ভয়াবহ স্থাপত্য এবং সেখানে মেয়েদের ওপর হওয়া অত্যাচারের এক শিউরে ওঠা বর্ণনা দিলেন খোদ এক আর্কিটেক্ট (Architect), যিনি সেখানে কাজ করেছিলেন।

কেমন ছিল সেই গোপন কুঠুরি? ঐ স্থপতির বয়ানে উঠে এসেছে এক লোমহর্ষক চিত্র। তিনি জানান, দ্বীপের ভেতরে এমনভাবে কক্ষগুলি তৈরি করা হয়েছিল যাতে বাইরে থেকে কিছুই বোঝা না যায়। বিশেষ করে মেয়েদের থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছিল অদ্ভুত সব ‘বাঙ্ক বেড’ (Bunk Beds)। এই শয্যাগুলো সাধারণ শোয়ার জায়গার মতো ছিল না, বরং তা অনেকটা খাঁচার মতো বা গাদাগাদি করে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

স্থপতির বয়ানে ‘ভয়াবহ’ সেই অভিজ্ঞতা:

  • আবদ্ধ খাঁচা: আর্কিটেক্ট জানিয়েছেন, সেখানে এমন কিছু ঘর ছিল যা অনেকটা কারাবাসের মতো। কমবয়সী মেয়েদের সেখানে আটকে রাখা হত।

  • অদ্ভুত স্থাপত্য: বিলাসবহুল ভিলার আড়ালে লুকানো ছিল গোপন সুড়ঙ্গ এবং শব্দহীন দেওয়াল, যাতে ভেতর থেকে আসা আর্তনাদ বাইরে কেউ শুনতে না পায়।

  • নারকীয় পরিবেশ: নকশাকার আরও জানান, সেখানে মেয়েদের নিরাপত্তার কোনো বালাই ছিল না, বরং তাদের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার জন্য যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরি করেছিলেন এপস্টাইন।

প্রসঙ্গ জেফরি এপস্টাইন: জেফরি এপস্টাইন ছিলেন একজন মার্কিন অর্থলগ্নি ব্যবসায়ী, যার বিরুদ্ধে পাচার এবং যৌন নিগ্রহের একাধিক মামলা ছিল। ২০১৯ সালে জেলবন্দি অবস্থায় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তবে তার সেই রহস্যময় দ্বীপে ঠিক কী কী চলত, তা নিয়ে আজও নতুন নতুন তথ্য বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিচ্ছে। এই আর্কিটেক্টের সাম্প্রতিক বয়ান সেই অন্ধকার ইতিহাসের দিকে আরও একবার আঙুল তুলল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy