টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। অনেকেই ভাবেন, গৌতম গম্ভীর প্রধান কোচ হওয়ার পরেই হয়তো নিজের পছন্দের খেলোয়াড় সূর্যকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ ১৮ মার্চ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার যাদব নিজেই সেই ধারণা ভেঙে চুরমার করে দিলেন। স্পষ্ট জানালেন, তাঁকে ক্যাপ্টেন করার পিছনে গম্ভীরের কোনো ভূমিকাই ছিল না!
গম্ভীর আসার আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল নাম: সূর্য জানিয়েছেন, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর রোহিত শর্মা অবসর নিলে সবাই ভেবেছিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়াই হবেন পরবর্তী অধিনায়ক। কিন্তু নির্বাচকদের ভাবনা ছিল অন্য। শ্রীলঙ্কা সফরের ঠিক ৩-৪ দিন আগে খোদ বিসিসিআই সচিব জয় শাহ ফোন করে সূর্যকে নেতৃত্বের খবর জানান। মজার বিষয় হলো, গৌতম গম্ভীর তখন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলের দায়িত্বভার গ্রহণই করেননি।
নেপথ্যে ছিলেন এই ৩ মহারথী: সূর্যকুমারকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তটি ছিল একটি ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্ত’। সূর্যর দাবি অনুযায়ী, এই মাস্টারপ্ল্যানটি সাজিয়েছিলেন:
-
সদ্য বিদায়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
-
প্রাক্তন হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়।
-
মুখ্য নির্বাচক অজিত আগরকর।
হার্দিকের ডবল ধাক্কা: এই সিদ্ধান্তের ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। তিনি কেবল অধিনায়কত্বের দৌড় থেকেই ছিটকে যাননি, তাঁর হাত থেকে সহ-অধিনায়কত্বের (Vice Captaincy) ব্যাটনটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যা পরবর্তীকালে তুলে দেওয়া হয়েছিল অক্ষর প্যাটেলের হাতে।
পরিসংখ্যানই কথা বলছে: অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, সূর্য প্রমাণ করেছেন যে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। তাঁর নেতৃত্বে ভারত এখনও পর্যন্ত ৫২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে ৪২টিতেই জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। হারের মুখ দেখতে হয়েছে মাত্র ৮টিতে। এই ৮২ শতাংশের বেশি জয়ের হারই বলে দিচ্ছে কেন রোহিত-দ্রাবিড়রা সূর্যের ওপর বাজি ধরেছিলেন।