টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মাত্র তিন মাসের মাথায় ভারতের টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়লেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সূর্যকুমারের জায়গায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারকে।
কেন বাদ পড়লেন সূর্যকুমার? প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি কারণ দর্শিয়েছেন:
ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ: বিশ্বকাপ জেতালেও, টুর্নামেন্টে সূর্যকুমারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল আশানুরূপ নয়। ৯ ইনিংসে ২৪২ রান সংগ্রহ করলেও, তাঁর স্ট্রাইক রেট ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই রেশ আইপিএলেও বজায় থাকে, যেখানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ১৩ ইনিংসে তিনি মাত্র ২৭০ রান করতে সক্ষম হন।
ভবিষ্যতের রূপরেখা: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পরবর্তী দুই বছরের টি-টোয়েন্টি চক্র এবং আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতিকে পাখির চোখ করেছে। আগারকারের কথায়, “বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টের পর দলকে নতুনভাবে সাজাতে হয়। আমরা মনে করেছি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা মাথায় রেখে এখনই এই পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।”
কেন শ্রেয়স আইয়ারই যোগ্য পছন্দ? নির্বাচকদের আস্থা অর্জনে শ্রেয়স আইয়ারকে এগিয়ে রাখার প্রধান কারণগুলো হলো:
নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা: আইপিএলে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে শ্রেয়সের নেতৃত্বের ট্র্যাক রেকর্ড অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি দিল্লি ক্যাপিটালস এবং পাঞ্জাব কিংসকে ফাইনালে তোলার নেপথ্যে ছিলেন তিনিই।
ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা: শুধু অধিনায়কত্ব নয়, গত কয়েক মরসুমে আইপিএলে ব্যাটার হিসেবেও শ্রেয়স দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। ২০২৫ আইপিএলে ৬০৪ রান এবং ২০২৬ মরসুমে ৪৯৮ রান তাঁর ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয়।
কী বার্তা দিল নির্বাচকরা? সূর্যকুমারের অধিনায়কত্ব অধ্যায়ের এই আকস্মিক সমাপ্তি পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখন শুধুমাত্র গতানুগতিক সাফল্যে সন্তুষ্ট নয়। বরং ব্যক্তিগত ফর্ম এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই দল গঠন করতে চাইছে তারা।
বিশ্বকাপ জয়ের মতো সাফল্যের পরেও সূর্যকুমারের এই বিদায় ক্রিকেট মহলে এক বড়সড় চমক হিসেবেই দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার বিষয়, শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে ভারতীয় দল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন এই চ্যালেঞ্জ কত দ্রুত মোকাবিলা করতে পারে।





