মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ, ঠিক তখনই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই আর জীবিত নেই। শুধু তাই নয়, তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত পুত্র মোজতবা খামেনেই-এর অবস্থা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, “মোজতবা হয়তো মৃত, না হলে প্রচণ্ড আহত।”
মোজতবাকে নিয়ে ধোঁয়াশা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমানহানায় খামেনেই-এর মৃত্যু হয়েছে বলে আগেই দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। এরপর খামেনেই-এর ৫৬ বছর বয়সী পুত্র মোজতবাকে নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরান। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে একবারও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকেই হাতিয়ার করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “মোজতবা মৃত কি না আমরা জানি না। কিন্তু কেউ তাঁকে দেখেনি। কেউ বলছে সে পা হারিয়েছে, কেউ বলছে সে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। কেউ তো ১০০ শতাংশ সুস্থ বলছে না!”
“ডেড স্যালারি” বলে বিদ্রূপ: সবচেয়ে নাটকীয় মেজাজে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের কমান্ড কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তিনি মজা করে বলেন, “ইরানই একমাত্র দেশ যেখানে কেউ নেতা হতে চায় না। যদি বড় কোনো সভায় কাউকে হাত তুলতে বলা হয় যে কে নেতা হবে, কেউ হাত তুলবে না। কারণ ওটা একটা ডেড স্যালারি (মৃত ব্যক্তির বেতন) নেওয়ার মতো পদ।” তাঁর মতে, মোজতবা আসলে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন কারণ তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থায় নেই।
ইরানের পাল্টা দাবি: যদিও ট্রাম্পের এই বক্রোক্তিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনেই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং তিনি যুদ্ধের তদারকি করছেন। রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে খবর রটেছিল যে মোজতবা চিকিৎসার জন্য মস্কো গিয়েছেন, কিন্তু ইরান সেই খবরও অস্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বয়ান আসলে ইরান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল। মোজতবা যদি সত্যিই প্রকাশ্যে না আসেন, তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড়সড় টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।