দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জমি সংক্রান্ত জট কাটাতে এবার নবান্নে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই স্তরের সমন্বয়ে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এই বৈঠকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (BSF) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সীমান্তের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে জমি হস্তান্তরের জটিলতায় সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ থমকে ছিল। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ কর্তৃপক্ষের। অবশেষে এই জমি জট কাটাতে নবান্নে আয়োজিত এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে এই সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। কাঁটাতার বসানোর কাজ যাতে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রকার রাজনীতি কাম্য নয়। কাঁটাতার বসলে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশ রোখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। জমি হস্তান্তরের যে জট ছিল, তা দ্রুত কাটাতে রাজ্য যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।”
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মূলত জমি অধিগ্রহণ এবং হস্তান্তরের প্রক্রিয়াই ছিল এই প্রকল্পের বড় বাধা। নবান্নের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত জমি সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন করবে। ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হলে তা সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই কাঁটাতার বসানো একটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই তৎপরতার পর ঠিক কত দ্রুত সময়ের মধ্যে কাঁটাতার বসানোর এই বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলে এলাকায় শান্তি ও সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে।





