বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে এবার আটঘাট বেঁধে ময়দানে নামল রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল। ঘাতকদের নাগাল পেতে প্রযুক্তির ওপর সবথেকে বেশি জোর দিচ্ছেন গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাস্থল এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যে ২০টিরও বেশি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। শুরু হয়েছে ‘ডিজিটাল ম্যাপিং’, যা অপরাধীদের পালানোর পথ শনাক্ত করতে সহায়ক হবে।
ফুটেজে কী দেখল সিআইডি? তদন্তকারী দল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগৃহীত ফুটেজগুলোতে সন্দেহভাজন কয়েকটি বাইক এবং একটি দ্রুতগামী গাড়ির গতিবিধি ধরা পড়েছে। অপরাধটি ঘটিয়ে ঘাতকরা কোনো মূল রাস্তা ব্যবহার করেছে নাকি ঘিঞ্জি গলি পথ দিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে পালিয়েছে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সেকেন্ডের ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, অপরাধীরা পেশাদার হওয়ায় তারা পুলিশের নজর এড়াতে বারবার দিক পরিবর্তন করেছে (Z-Mapping)।
অপারেশন ‘রুট ম্যাপ’ তদন্তের স্বার্থে সিআইডি একটি ‘রুট ম্যাপ’ তৈরি করছে। ঘটনার ঠিক আধ ঘণ্টা আগে এবং এক ঘণ্টা পরের সমস্ত সিসিটিভি টাওয়ার ডাম্প এবং ক্যামেরা ফুটেজ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে ধরা পড়েছে যে, ঘাতকরা সম্ভবত এমন একটি পথ বেছে নিয়েছিল যা সচরাচর পুলিশের টহলদারির বাইরে থাকে। ২০টির বেশি ফুটেজ থেকে ঘাতকদের শারীরিক গঠন এবং তাদের ব্যবহৃত হেলমেট ও পোশাক সম্পর্কেও চাঞ্চল্যকর সূত্র মিলেছে।
তদন্তে ‘মোবাইল টাওয়ার ডাম্প’ প্রযুক্তি ফুটেজ ম্যাপিংয়ের পাশাপাশি ওই নির্দিষ্ট সময়ে ওই এলাকায় সক্রিয় থাকা মোবাইল টাওয়ারগুলোর ডেটা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন কিছু নম্বরের তালিকা তৈরি করে সেগুলোর বর্তমান লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, খুনিরা সম্ভবত ভিন রাজ্যে পালানোর ছক কষছে, আর সেই কারণেই উত্তরবঙ্গ এবং আন্তঃরাজ্য সীমান্তগুলোতে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে টানটান উত্তেজনা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গীর এই পরিণতির নেপথ্যে কোনও বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আগেই ‘টার্গেট কিলিং’-এর ইঙ্গিত মিলেছিল, আর এবার ২০টি ফুটেজের সূত্র ধরে সিআইডি-র এই সক্রিয়তা খুনিদের গ্রেফতারির সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
লালবাজার ও ভবানী ভবনের গোয়েন্দারা কি পারবেন এই ২০টি ফুটেজের গোলকধাঁধা পেরিয়ে আসল অপরাধীদের কলার ধরতে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা বাংলা।





