মধ্যপ্রাচ্যে ফের একবার যুদ্ধের দামামা। সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (IS)-এর ডেরায় মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালিয়ে চরম ধ্বংসলীলা চালাল মার্কিন সেনা। শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিরিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আইএসের ৩০টিরও বেশি গোপন আস্তানাকে লক্ষ্য করে ১০টি শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
কেন এই হঠাৎ আক্রমণ?
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার পালমায়রায় ইসলামিক স্টেটের একটি অতর্কিত হামলায় তিন মার্কিন সৈন্য প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ’-এ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এদিনের হামলা সেই প্রতিশোধেরই একটি বড় অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও লক্ষ্য
-
টার্গেট: জঙ্গিদের পরিকাঠামো, অস্ত্রাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
-
সাফল্য: এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি আইএস জঙ্গিকে খতম বা আটক করা হয়েছে। এছাড়া ধ্বংস করা হয়েছে ১০০টিরও বেশি গোপন ঘাঁটি।
-
জঙ্গি নিকেশ: জানুয়ারিতেই আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ কুখ্যাত জঙ্গি বিলাল হাসান আল-জসিমকে খতম করে আমেরিকা বড় সাফল্য পেয়েছিল।
সেন্ট্রাল কমান্ডের কড়া বার্তা
সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার সাফ জানিয়েছেন, “আমেরিকা তার সৈন্য বা নাগরিকদের ওপর হামলাকারীদের কখনও ক্ষমা করে না।” জঙ্গিদের হামলার ক্ষমতা পুরোপুরি ধুলিসাৎ করতেই এই লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বন্দি হস্তান্তর: নতুন মোড়
অপারেশনের পাশাপাশি মার্কিন সেনা সিরিয়া থেকে প্রায় ৫,৭০০ জন আইএস সন্দেহভাজনকে ইরাকের হাতে তুলে দিয়েছে। এদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে পরবর্তী সময়ে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে তাদের সবার বিরুদ্ধে এখনও নির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়নি।