বারুইপুরের ধপধপি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার সাক্ষী থাকল। শনিবার বিকেলে বারুইপুর থানার অন্তর্গত খুঁটিবেড়িয়া গ্রামের এক ইটভাটা সংলগ্ন বাগানে এক সিপিএম কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম আবদুল হাই মণ্ডল। বর্তমানে তিনি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আক্রান্তের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকেলের দিকে আবদুল হাই মণ্ডল বাড়ির কাছেই নিজের বাগানে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পাশের বৃন্দাখালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পরিচিত তিন দুষ্কৃতী—হাবিবুর গাজী, সাইফুল শেখ এবং মুস্তাক শেখ সহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি বাগান থেকে বেরিয়ে আসছে। বাগানে তাদের উপস্থিতি দেখে আবদুল তাদের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তিনি জানতে চান, কেন তারা তাঁর ব্যক্তিগত বাগানে ঢুকেছিল। অভিযোগ, এই প্রশ্ন করার মুহূর্তের মধ্যেই ওই দুষ্কৃতীরা লোহার রড ও দা নিয়ে আবদুলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুষ্কৃতীরা অমানবিক কায়দায় আবদুলের মুখ, ঘাড়, কান এবং কোমরে এলোপাথাড়ি দা দিয়ে কোপাতে শুরু করে। আক্রান্ত ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আর্তনাদ করতে থাকলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আক্রান্তের পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা স্থানীয় এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরেই নানা অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আবদুল হাই মণ্ডলকে উদ্ধার করে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গভীর ক্ষত থাকায় চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। শনিবার রাতেই আহত কর্মীকে দেখতে হাসপাতালে হাজির হন বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম ও বিজেপি নেতৃত্ব। দুই দলের তরফেই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তোলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব বোধ তৈরি হয়েছে।





