বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক অদ্ভুত দৃশ্য ধরা পড়ল। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড হওয়া এবং পৃথক রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) গঠন করার পরেও, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দেখা গেল শাসক দলের বেঞ্চেই। সূত্রের খবর, হুমায়ুন বা তৃণমূল— কোনো পক্ষই আসন বদল নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে কোনো আবেদন না জানানোয়, ব্লক-৬-এর ২০৯ নম্বর আসনেই বসে রইলেন তিনি।
মঙ্গলবার অধিবেশনে শাহনওয়াজ খান ও জয়দেব হালদারের মাঝে নিজের পুরনো আসনেই বসে থাকতে দেখা যায় হুমায়ুনকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “এতে কোনো অস্বস্তি নেই। স্পিকার যেখানে বসিয়েছেন, সেখানেই বসেছি।” তবে নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছেন তিনি। বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের বিতর্কিত ঘোষণা ও অর্থ সংগ্রহের জেরে গত ডিসেম্বরে ফিরহাদ হাকিম তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছিলেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর দাবি, “এটা তৃণমূলেরই সাজানো নাটক। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে মুসলিম ভোট যাতে হাতছাড়া না হয়, তার জন্যই হুমায়ুনকে দিয়ে ‘বি-টিম’ খোলা হয়েছে। তাই তাঁর আসন তৃণমূলের বেঞ্চে থাকাটাই স্বাভাবিক।”
অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, হুমায়ুন পদত্যাগ না করলে বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন না এলে আসন বদল সম্ভব নয়। আপাতত ২০ ফেব্রুয়ারি ভরতপুরের বিধায়ক নিজের চূড়ান্ত কার্ড কী খেলেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।