উত্তরপ্রদেশে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বিতর্ক ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এবার মুখ খুললেন সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা আজম খান। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুরো ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দেন।
আজম খান সরাসরি যোগী প্রশাসনকে নিশানা করে বলেন, “এই সামান্য বিষয়কে যোগীর প্রশাসনই অগ্নিস্ফুলিঙ্গে পরিণত করেছে।” তাঁর দাবি, পুলিশ যদি চাইত, আলোচনার মাধ্যমেই এই ‘ছোট ঘটনাটির’ সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু তা না করে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভাঙা হয়েছে।
আজম খানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার কারণেই এই ছোট্ট স্ফুলিঙ্গ এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, “যতই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হোক না কেন, সমাধান সবসময় টেবিলে বসেই হয়… এই ঘটনার পেছনে একটা বড় চক্রান্ত কাজ করছে সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য।”
‘ভালোবাসা জন্মগত অধিকার’
বিতর্কের মূল কারণ অর্থাৎ ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ পোস্ট নিয়ে আজম খান আরও একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “যদি কেউ কাউকে ভালোবাসে, সেটা তার জন্মগত অধিকার। এটা নিয়ে বিতর্ক তোলা, উত্তেজনা ছড়ানো সবই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
রাজনৈতিক চাপান-উতোর
আজম খানের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি নেতারা তাঁর মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন, “আজম খান ধর্মের নামে আগুন জ্বালাতে চাইছেন।” অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির একাধিক নেতা আজম খানের বক্তব্যের সমর্থনে জানিয়েছেন, “আজম সাহেব সম্প্রীতির পক্ষে কথা বলেছেন, প্রশাসনের ব্যর্থতাই এই সংঘাতের মূল।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও আজম খানের এই মন্তব্য একদিকে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের মনোভাবকে প্রশমিত করার চেষ্টা, অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ রাজনীতিতে তাঁর হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধারের কৌশলও হতে পারে।





