ভারতীয় আকাশসীমার সুরক্ষায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস Mk1A (Tejas Mk1A) এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি এর অস্ত্র পরীক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে, যা ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই উল্লাসের মাঝেই বড় এক দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে বায়ুসেনার শীর্ষ কর্মকর্তাদের কপালে— আর তা হলো এর ‘ডেলিভারি’ বা হস্তান্তর।
অস্ত্র পরীক্ষায় চমক: তেজস Mk1A যুদ্ধবিমানটি আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে মাটিতে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করার পরীক্ষায় অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছে। উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ মিসাইল উৎক্ষেপণে এটি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই পরীক্ষা সফল হওয়ার অর্থ হলো, আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে এটি বিশ্বের যেকোনো প্রথম সারির যুদ্ধবিমানের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম।
ডেলিভারি নিয়ে কেন এত সংশয়? অস্ত্র পরীক্ষায় পাশ করলেও হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর পক্ষ থেকে সময়মতো বিমান সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে সংশয় দানা বেঁধেছে। বায়ুসেনার চুক্তি অনুযায়ী, যে সময়ের মধ্যে প্রথম ব্যাচের বিমানগুলো হাতে পাওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংশয়ের প্রধান কারণসমূহ:
-
ইঞ্জিন সরবরাহ: তেজসের জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন কোম্পানি জিই (GE)-এর ইঞ্জিন সরবরাহ পেতে দেরি হওয়া।
-
সাপ্লাই চেইন সমস্যা: বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্দিষ্ট কিছু খুচরো যন্ত্রাংশ পেতে সমস্যা হচ্ছে।
-
উৎপাদন ক্ষমতা: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় সংখ্যায় বিমান তৈরির চাপ সামলানো হ্যাল-এর কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারতীয় বায়ুসেনার ভাঁড়ারে দ্রুত কমছে ফাইটার স্কোয়াড্রন। এই অবস্থায় তেজস Mk1A-র ডেলিভারিতে সামান্য দেরিও দেশের আকাশপথের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।