মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে এক ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬-এ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ঘোষণা করেছে যে, তারা তেহরানে অবস্থিত ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সদর দপ্তর সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অভিযানের সাফল্য বর্ণনা করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীর তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, “সাপের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত ৪৭ বছরে প্রায় ১০০০-এর বেশি আমেরিকানের মৃত্যুর জন্য এই আইআরজিসি দায়ী। তাই এক ‘সুপরিকল্পিত’ এবং ‘বৃহৎ’ অভিযানের মাধ্যমে তাদের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মার্কিন কমান্ড জানিয়েছে, “বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এখন আমেরিকার কাছেই রয়েছে। আইআরজিসি-র এখন আর কোনো সদর দপ্তর অবশিষ্ট নেই।”
গত কয়েকদিন ধরেই ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং ইরানের সামরিক কাঠামোর ওপর এই আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যু হয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় জর্ডন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের আকাশসীমাও এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।