সাংসদ পেনশন চাই না! রাজ্যসভায় চিঠি দিয়ে নজির গড়লেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, কী কারণে এই প্রত্যাখ্যান?

ভারতীয় রাজনীতিতে যখন সুযোগ-সুবিধার লড়াই তুঙ্গে, তখন এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন সিপিআই(এম) নেতা তথা রাজ্যসভার সদ্য প্রাক্তন সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে একটি চিঠি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে তাঁর প্রাপ্য কোনো পেনশন বা ভাতা তিনি গ্রহণ করবেন না।

কী লিখেছেন চিঠিতে? বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর চিঠিতে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানিয়েছেন যে, তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। ওকালতি পেশা থেকেই তাঁর জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপার্জন হয়ে যায়। তাই দেশের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সুবিধা বা আজীবন পেনশন নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করছেন না। তাঁর এই পেনশন যেন অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়, চিঠিতে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

একনজরে বিকাশরঞ্জনের পদক্ষেপ:

  • আজীবন পেনশন ত্যাগ: নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ার পর আজীবন মোটা অঙ্কের পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল তাঁর।

  • বিরল দৃষ্টান্ত: বর্তমান সময়ে যেখানে নেতাদের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক লেগেই থাকে, সেখানে বিকাশরঞ্জনের এই ত্যাগ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • বাম আদর্শের পরিচয়: সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, বিকাশবাবু তাঁর কাজের মাধ্যমেই বুঝিয়ে দিলেন যে কমিউনিস্টরা জনসেবাকে পেশা নয়, নেশা হিসেবে দেখেন।

পেশা ও রাজনীতি: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কলকাতা হাইকোর্টের একজন অত্যন্ত সফল ও দামী আইনজীবী। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি নিঃস্বার্থভাবে লড়াই করছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ওকালতি জীবনে তাঁর যে আয়, তা দিয়েই তিনি স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারেন। তাই রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে তিনি নৈতিকতার এক উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন, “নেতা তো এমনই হওয়া উচিত।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy