সাংবাদিকতার ‘আঁতুড়ঘর’ ইনাডু! স্মৃতি রোমন্থন প্রথম ব্যাচের দুঁদে সাংবাদিকদের

ভারতীয় সাংবাদিকতার মানচিত্র বদলে দেওয়ার কারিগর যদি কাউকে বলা হয়, তবে ‘ইনাডু’-র নাম থাকবে প্রথম সারিতে। অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশে যখন ইনাডু জার্নালিজম স্কুলের পথচলা শুরু হয়েছিল, তখন কেউ ভাবেনি যে এই প্রতিষ্ঠানটিই একদিন দেশের সংবাদ জগতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। আজ সেই প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন ছাত্ররা প্রবীণ সাংবাদিকের তকমা পেয়েছেন। তাঁদের হাত ধরেই গড়ে উঠেছে আজকের আধুনিক সাংবাদিকতার ধারা। সেই শুরুর দিনগুলোর অভিজ্ঞতা আজ যেন এক জীবন্ত ইতিহাস।

কঠিন প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব প্রথম ব্যাচের সাংবাদিকদের মতে, ইনাডু জার্নালিজম স্কুল কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না, ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। খবরের গভীরে গিয়ে সত্যকে তুলে আনা এবং ভাষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার যে পাঠ সেখানে দেওয়া হয়েছিল, তা আজও তাঁদের পাথেয়। প্রবীণ সাংবাদিকদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে রামোজি রাও-এর সেই দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, যা আঞ্চলিক সংবাদপত্রের সংজ্ঞাই পাল্টে দিয়েছিল। গ্রামগঞ্জের খবরকে মূলস্রোতে নিয়ে আসার কৌশলী প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো এই স্কুলে।

আবেগে মোড়া স্মৃতিচারণ প্রবীণ সাংবাদিকদের কথায়, সেই সময়কার টাইপরাইটারের খটখট শব্দ আর খবরের সন্ধানে মাইলের পর মাইল ছোটা— সবটাই ছিল এক নেশার মতো। ইনাডুর প্রশিক্ষণ তাঁদের শিখিয়েছিল কীভাবে নিরপেক্ষ থেকে খবরের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হয়। আজ যখন ডিজিটাল মিডিয়ার ভিড়ে সংবাদমাধ্যমের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন ইনাডু স্কুলের সেই প্রবীণ সৈনিকেরা মনে করিয়ে দেন সাংবাদিকতার প্রকৃত নৈতিকতা। তাঁদের মতে, ইনাডু কেবল সাংবাদিক তৈরি করেনি, তৈরি করেছিল সমাজের অতন্দ্র প্রহরী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy