রাত পোহালেই বাগদেবীর আরাধনা। সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে ইতিমধেই সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে গোটা বাংলায়। স্কুল থেকে পাড়ার মণ্ডপ—সবত্রই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সেজে কাল সকালেই অঞ্জলি দিতে ভিড় জমাবে কচিকাঁচারা। তবে এই উৎসবের আমেজেই কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। প্রশ্ন উঠছে, কাল সকালে কি জাঁকিয়ে শীত অনুভূত হবে? আলিপুর আবহাওয়া দফতর কিন্তু খুব একটা স্বস্তির খবর শোনাতে পারছে না।
পুজোর সকালে কেমন থাকবে আবহাওয়া? হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরস্বতী পুজোর সকালে হাড়কাঁপানো শীত উপভোগ করা সম্ভব হবে না। ভোর এবং ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়বে তাপমাত্রা। তাই সকালে অঞ্জলি দেওয়ার সময় হালকা শীত পোশাকের প্রয়োজন পড়লেও দুপুরের দিকে রোদের তেজ বাড়বে। ফলে জাঁকিয়ে শীতের আমেজ আর থাকছে না। তবে রাতের দিকে কিছুটা ঠান্ডা ফিরলেও তা কনকনে হবে না।
কেন হঠাৎ উধাও শীত? মাঘের শুরুতে যখন শীতের দাপট থাকার কথা, তখনই কেন পারদ ঊর্ধ্বমুখী? আবহাওয়াবিদদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে জোড়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। গত ১৯ এবং ২১ জানুয়ারি পরপর দুটি ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ায় উত্তুরে হাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর পাশাপাশি কলকাতাতেও একই পরিস্থিতি থাকবে। দিনের বেলা বেশ গরম অনুভূত হতে পারে।
উত্তরবঙ্গ ও কুয়াশার সতর্কতা উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও মালদাতেও তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পাহাড়ে অর্থাৎ দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে শীতের আমেজ বজায় থাকবে। তাই পর্যটকদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তবে তাপমাত্রার হেরফেরের সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে বাড়বে কুয়াশার দাপট। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমানে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা থাকবে। ফলে পুজোয় যাতায়াতের সময় গাড়ি চালকদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।