২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে সূচিত হলো এক নতুন যুগ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার নবান্নের ১৪ তলায় নিজের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সারলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর তাঁর এই ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’ ঘিরে প্রশাসনিক মহলে যেমন তৎপরতা ছিল তুঙ্গে, তেমনই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদও ছিল আকাশছোঁয়া।
এদিন নবান্নের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রীসভার হেভিওয়েট সদস্য দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনীয়া। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন, তা এক কথায় নজিরবিহীন। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার কেবল কথা বলা নয়, কাজে বিশ্বাসী।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিএসএফ:
জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে যাতে আর কোনো প্রশাসনিক জটিলতা না থাকে, তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তিনি মুখ্য সচিবকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ দমনে এক বড় সাফল্য আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প:
রাজ্যে বহু প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য প্রকল্প অবিলম্বে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি যাতে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছায়, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চাকরিপ্রার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর:
বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক বিরাট ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সের সময়সীমা আরও ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো এবং রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) চালুর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। যদিও এটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শীঘ্রই আসবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রশাসনিক রদবদল:
রাজ্যের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রথম দিনেই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন চলবে স্বচ্ছতা ও গতির মিশেলে।





