‘সবটাই বিভ্রান্তি!’ ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর কলকাতা পুরনিগমের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিকাশ রঞ্জনের

বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের আকস্মিক ইস্তফা ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। একদিকে তৃণমূলের দাবি, মেয়র না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়বে পুর-পরিষেবা; অন্যদিকে প্রশাসন ও বিরোধী মহলের মতে, এটি কেবলই রাজনৈতিক নাটক। এই টানাপোড়েনের মাঝে মুখ খুললেন প্রাক্তন মেয়র ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

‘পুরনিগমের আইন স্বয়ংসম্পূর্ণ’ পুর-পরিষেবা কি সত্যিই থমকে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে ইটিভি ভারতকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “কলকাতা পুরনিগমের আইন অত্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ। মেয়র পদত্যাগ করেছেন কারণ তাঁর দলের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে সংকটের কিছু নেই। যারা ‘সংকট’ বলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সংবিধানে পুরনিগমকে তৃতীয় স্তরের সরকার বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, মেয়র না থাকলে প্রশাসক দিয়ে পুরসভা চালানো যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলে যেমন রাজ্য অচল হয় না, তেমনি মেয়র না থাকলেও পুরসভা অচল হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? প্রাক্তন মেয়রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কলকাতা পুরনিগমের চেয়ারপার্সন চাইলে নতুন সভা ডেকে পরবর্তী মেয়র নির্বাচন করতে পারেন। রাজ্য সরকার চাইলেই হুট করে বোর্ড ভেঙে দিতে পারে না, তার জন্য নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই ইস্তফাকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ বলে কটাক্ষ করলেও, বিকাশ ভট্টাচার্য পুরো বিষয়টিকে প্রশাসনিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।

সমন্বয়ের অভাবেই জটিলতা বাম আমলে তৃণমূলের সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মেয়র থাকাকালীন যে সমন্বয় ছিল, আজকের প্রেক্ষাপটে তা অনুপস্থিত কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিকাশ ভট্টাচার্য জানান, গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণকে সম্মান জানানো এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আইন মেনে কাজ করার দায়বদ্ধতা— এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য না থাকলেই প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়।

ফিরহাদ হাকিম ইস্তফার সময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “ঢাল-তরোয়ালহীন নিধিরাম সর্দার হয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকা সম্ভব নয়।” অন্যদিকে, মেয়াদের মাত্র ছয় মাস বাকি থাকতে তাঁর এই প্রস্থান কলকাতা পুরনিগমের অন্দরে এক গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, শাসক ও বিরোধী পক্ষের এই দড়ি টানাটানির মাঝে সাধারণ নাগরিকরা নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন কি না, নাকি দ্রুত কোনো প্রশাসনিক সমাধান বেরিয়ে আসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy