সন্দেশখালি কাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান-কে জামিন দিতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় বিচারপতিরা কার্যত ভর্ৎসনা করেন তাঁর আইনজীবীকে, যা এই মামলার সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ:
মামলার প্রকৃতি এবং ঘটনার গম্ভীরতা বিবেচনা করে আদালত জামিন প্রদানে নিজেদের অনিচ্ছার কথা স্পষ্ট করে দেয়। সূত্র অনুযায়ী, বিচারকরা প্রশ্ন তোলেন যে, কতটুকু প্রমাণ রয়েছে এবং অভিযুক্তের মুক্তি সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের মূল বক্তব্য ছিল
“মামলার তলানিতে পৌঁছানো পর্যন্ত আইন প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রাখতে হবে। সেই সময় পর্যন্ত সমাজ ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
আইনজীবীর যুক্তিকে অগ্রাহ্য:
শেখ শাহজাহানের আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে আসছেন যে, তাঁর মক্কেল সমাজের জন্য বিপদ সৃষ্টি করতে পারেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি প্রমাণিত নয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা এই যুক্তিকে সন্তোষজনক মনে করেননি।
আদালত এই বিষয়েও স্পষ্ট করে দেয় যে, শুধুমাত্র আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থান বা আঞ্চলিক প্রভাবের কারণে কোনো ধরনের আপেক্ষিক সুবিধা দেওয়া যায় না।
সন্দেশখালি কাণ্ডের অভিযুক্তদের জন্য সতর্কবার্তা:
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন শেখ শাহজাহানের জন্য বড় ধাক্কা, তেমনি সন্দেশখালি কাণ্ডের অন্যান্য অভিযুক্তদের জন্যও একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এই কাণ্ডটি দীর্ঘ সময় ধরে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তাঁরা প্রভাবশালী লোকের সাথে মিলে স্থানীয় জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। আদালতের এই পদক্ষেপ ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করবে।