যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার জনসংখ্যায় টান পড়েছে মারাত্মকভাবে। আর সেই সংকট মেটাতে এবার রাশিয়ার মহিলারা যদি সন্তানধারণে রাজি না হন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে ভ্লাদিমির পুতিন সরকার। সম্প্রতি রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘স্টেট ডুমা’-তে একটি বিল পেশ করা হয়েছে, যেখানে ‘চাইল্ড-ফ্রি’ বা সন্তানহীন জীবনযাপন প্রচার করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কী এই নতুন আইন? পুতিন সরকারের দাবি, যারা স্বেচ্ছায় সন্তান নিতে চাইছেন না বা ‘চাইল্ড-ফ্রি’ আদর্শ প্রচার করছেন, তাঁরা রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামোর ওপর আঘাত হানছেন। নতুন এই প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট, সিনেমা বা বিজ্ঞাপনে যদি কেউ ‘সন্তানহীন জীবন সুখী’—এই জাতীয় কোনো প্রচার চালায়, তবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই আইন লঙ্ঘন করলে সাধারণ নাগরিকদের বিশাল অঙ্কের জরিমানা এবং বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে বহিষ্কারের মতো সাজা হতে পারে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? রাশিয়ার জন্মহার বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিপুল সংখ্যক তরুণ প্রজন্মের মৃত্যু এবং দেশত্যাগের ফলে জনতাত্ত্বিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, “জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন রাশিয়ার জাতীয় অগ্রাধিকার। যারা সন্তান না নেওয়ার প্রচার করছেন, তাঁরা দেশের ভবিষ্যতের শত্রু।”
মহিলাদের অধিকার ও বিতর্ক এই আইন নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, একজন মহিলা মা হবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জোর করে বা প্রচার বন্ধ করে মাতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। কিন্তু পুতিন প্রশাসন মনে করছে, পশ্চিমী সংস্কৃতি রাশিয়ার যুবসমাজকে পরিবার বিমুখ করছে, যা রুখতে এই ‘অন্য পথে’ হাঁটা ছাড়া উপায় নেই।