বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রত হলো ‘নীলষষ্ঠী’। মূলত সন্তানদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় মায়েরা এই ব্রত পালন করেন। চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগের দিন অর্থাৎ চড়ক পুজোর পূর্বাহ্নে দেবাদিদেব মহাদেব ও মা ষষ্ঠীর আরাধনা করা হয়। ২০২৬ সালে এই পুণ্যতিথি কবে পড়েছে এবং পুজোর সঠিক সময় কী, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
২০২৬ সালের নীলষষ্ঠীর তারিখ ও শুভ সময়: পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালের নীলষষ্ঠী পালিত হবে ২৭শে চৈত্র (১৩ই এপ্রিল, সোমবার)।
-
নীল বাতি দেওয়ার শুভ মুহূর্ত: সন্ধ্যার গোধূলি লগ্ন থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত এই বিশেষ আচার পালন করা যায়। তবে পুজোর নির্ঘণ্ট অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে শিব মন্দিরে দীপদান করা অত্যন্ত শুভ।
পালনের নিয়ম ও আচার: নীলষষ্ঠীর ব্রত পালনের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা জরুরি:
-
উপবাস: ব্রতী মহিলারা সারাদিন নির্জলা উপবাস পালন করেন। বিকেলের পর শিবের পুজো দিয়ে তবেই জল বা ফল আহার করা যায়।
-
শিবের পুজো: শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা এবং আকন্দ ফুলের মালা দিয়ে পুজো দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে ধুতুরা ফুল ও ফল।
-
নীল বাতি: সন্ধ্যার সময় শিব মন্দিরের সামনে বা বাড়ির তুলসী তলায় সন্তানের নামে মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালানো হয়, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘নীল বাতি’ দেওয়া বলে।
-
ব্রত কথা: পুজোর শেষে নীলষষ্ঠীর মাহাত্ম্য ও পৌরাণিক কাহিনী পাঠ বা শ্রবণ করা বাধ্যতামূলক।
নীলষষ্ঠীর মাহাত্ম্য: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শিব ও দুর্গার আশীর্বাদে এক নিঃসন্তান দম্পতি পুনরায় তাঁদের মৃত সন্তানদের ফিরে পেয়েছিলেন এই ব্রত পালনের মাধ্যমে। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে নীলষষ্ঠীর ব্রত পালন করলে মহাদেব সন্তুষ্ট হন এবং সন্তানদের সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন। যারা সন্তানের সুখ কামনা করেন, তাঁদের জন্য এই ব্রত অত্যন্ত ফলদায়ক।