আজ রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের জবাবি ভাষণ দিতে উঠে রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংসদের উচ্চকক্ষে বিরোধীদের প্রবল হট্টগোল আর স্লোগানের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী বেছে বেছে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিশেষ করে বাংলার অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন তৃণমূল সরকারের নাম না করে ‘নির্মম সরকার’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “গোটা পৃথিবী যখন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে দিচ্ছে, তখন বাংলার সরকার তাদের বাঁচাতে আদালতের দরজায় কড়া নাড়ছে। এই অনুপ্রবেশকারীরাই বাংলার যুব প্রজন্মের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে, আদিবাসীদের জমি দখল করছে। অথচ রাজ্য সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে আমাদের জ্ঞান দিচ্ছে।” মোদী আরও যোগ করেন, উন্নয়নের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে এবং সেখানকার মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
ভাষণের শুরুতেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে উদ্দেশ্য করে একচিলতে রসিকতা ও কটাক্ষের মিশেলে মোদী বলেন, “আপনার যা বয়স, তাতে দাঁড়িয়ে স্লোগান না দিয়ে বসেই বলুন।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ট্রেজারি বেঞ্চে হাসির রোল উঠলেও বিরোধী শিবিরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই কংগ্রেসের ‘ভিশন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদী বলেন, “লালকেল্লা থেকে আগের প্রধানমন্ত্রীদের ভাষণ শুনলেই বোঝা যায় তাঁদের কোনও দূরদৃষ্টি ছিল না। তাঁদের করা ভুল শোধরাতেই আমাদের অর্ধেক শক্তি খরচ হয়ে যাচ্ছে।”
বিরোধীদের ওয়াক-আউটের ঘটনাকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। মোদী বলেন, “অনেকেই উত্তর শোনার ধৈর্য হারিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন, কিন্তু দেশের মানুষকে আপনাদের জবাব দিতেই হবে।” মোদীর এই ভাষণ স্পষ্ট করে দিল যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করতে চলেছে বিজেপি।