সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সোমবার যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিতে লোকসভায় প্রবেশ করেন, তখনই এক অন্য দৃশ্যের সাক্ষী হল গোটা কক্ষ। বিজেপি সাংসদরা সমস্বরে “বিহার কি জিত হামারি হ্যায়, অব বাঙ্গাল কি বারি হ্যায়” স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
সাংসদরা আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। হিন্দি স্লোগানটির বাংলা অর্থ— “আমরা বিহার জিতেছি। এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা।”
বিহারের সাফল্যের রেশ বাংলায়
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ সহ এনডিএ জোট বড় জয় পেয়েছিল। এনডিএ জোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টি আসন দখল করে। এই সাফল্যের পর থেকেই বিজেপি পরবর্তী টার্গেট হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকেই বেছে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিহার নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই বাংলার ভোট নিয়ে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং সেদিনই বলেছিলেন, এবার গেরুয়া শিবিরের নজর বাংলার দিকে। এমনকী, বিহার বিজয়ের পর বিজেপির দলীয় দফতরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলাতেও শোনা গিয়েছিল বাংলা জয়ের ডাক।
রাজনৈতিক মহলের তাৎপর্য
আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যস্তরে দলীয় কাঠামোয় একাধিক রদবদল করেছে বিজেপি। ভিন রাজ্যের নেতাদের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ বহু নেতা-মন্ত্রী বাংলায় ঘন ঘন সফর করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে লোকসভায় বিজেপি সাংসদদের সমস্বরে বাংলার ভোটকে টেনে স্লোগান দেওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক মহল এক বিশেষ তাৎপর্য দেখছে। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গের ভোটকে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং তাদের ‘মিশন বাংলা’র বার্তা এবার সরাসরি সংসদের মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন।