মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলেও, সেই আইনের প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে এবার মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংরক্ষণের নামে আসলে মহিলাদের রাজনৈতিক পরিসরকে নির্দিষ্ট একটি গণ্ডির মধ্যে বেঁধে ফেলতে চাইছে কেন্দ্র।
তৃণমূলের মূল অভিযোগ কী? তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বললেও এর আড়ালে কিছু ‘শর্ত’ এবং ‘সীমা’ চাপিয়ে দিচ্ছে:
সীমা নির্ধারণের ছক: তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্র এমন কিছু নিয়মাবলী তৈরি করতে চাইছে যা মহিলাদের অংশগ্রহণের হারকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখবে। অর্থাৎ, এটি ক্ষমতায়ন নয়, বরং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
ডিলিমিটেশন ও সেন্সাস কার্ড: বিলটি পাস হলেও তা কার্যকর করার জন্য জনগণনা (Census) এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের (Delimitation) যে শর্ত রাখা হয়েছে, তাকে ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে তৃণমূল। তাঁদের মতে, এর ফলে ২০২৬ বা ২০২৯-এর আগে মহিলারা প্রকৃত সুবিধা পাবেন না।
বাংলার মডেল বনাম কেন্দ্রের বিল: তৃণমূল মনে করিয়ে দিয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত এবং লোকসভা-বিধানসভা নির্বাচনে মহিলাদের প্রার্থী করার হার ৩৩ শতাংশের অনেক বেশি। কেন্দ্রের বিল সেই স্বতঃস্ফূর্ত অধিকারকে আইনি মারপ্যাঁচে কমিয়ে আনতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মহিলা ভোটব্যাঙ্ক বা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ অনুগামীরা বড় ফ্যাক্টর। এই অবস্থায় মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে তৃণমূল আসলে মহিলা ভোটারদের কাছে নিজেদের ‘একমাত্র রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
বিজেপির পাল্টা উত্তর: বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, মোদী সরকারই প্রথম সাহস দেখিয়ে এই ঐতিহাসিক বিল পাস করেছে। তৃণমূল কেবল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
উপসংহার: মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে এই দড়িটানাটানি ২০২৬-এর ভোটের লড়াইকে আরও সংবেদনশীল করে তুলল। সংরক্ষণ কি সত্যিই নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করবে, না কি তৃণমূলের দাবি মতো তা কেবল একটি ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার।





