শ্লীলতাহানির অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহনন! ওড়িশার বারগড় জেলায় কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু, ছয় মাসে পঞ্চম ঘটনা

যমে-মানুষে টানাটানির পর অবশেষে হার মানলেন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া কলেজ ছাত্রী। শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা সেই আদিবাসী ছাত্রী সোমবার সকালে হাসপাতালে মারা গেলেন। এই ঘটনায় গত ছয় মাসের মধ্যে বিজেপি শাসিত রাজ্যে এটি একই ধরনের পঞ্চম ঘটনা।

আজ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধ কলেজ ছাত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং তাঁর অধিকাংশ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে গিয়েছিল।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ১৮ বছরের আদিবাসী ছাত্রীটি রাজগঙ্গাপুর কলেজের পড়ুয়া ছিলেন। অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী তরুণ তাঁকে গত দুই বছর ধরে উত্যক্ত করত। কখনও চলন্ত বাসে শ্লীলতাহানি, আবার কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন মেসেজ। গত কয়েক সপ্তাহে হেনস্থা আরও বেড়ে গিয়েছিল।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার চলন্ত বাসে তরুণীকে শ্লীলতাহানি করে এবং হুমকি দেয় অভিযুক্ত। একটানা হেনস্থার অপমান সহ্য করতে না পেরেই সেদিন রাতে বাড়িতে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ছাত্রী। ঘটনার সময় ছাত্রীর পরিবারের সকলে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।

চিৎকারের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে রাউরকেলার ইস্পাত জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শনিবার পুলিশ জানায়, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। কিন্তু সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ অভিযুক্ত কলেজ পড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে।

লাগাতার আত্মহত্যার ঘটনা

উল্লেখ্য, ওড়িশা রাজ্যে গত ছয় মাসে কলেজ ছাত্রী ও নাবালিকাদের আত্মহত্যার এটি পঞ্চম ঘটনা।

৩০ দিনের ব্যবধানে চতুর্থ ঘটনা: গত ১১ আগস্ট, ১৩ বছরের এক কিশোরী একইভাবে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তার আগে পুরী, বালাঙ্গা ও কেন্দ্রপাড়াতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

কেন্দ্রপাড়া ও বালেশ্বর: কিছুদিন আগে কেন্দ্রপাড়ায় আরও এক কলেজ ছাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান, যাঁর পরিবার প্রেমিকের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলেছিল। এর আগে ১২ জুলাই বালেশ্বরের ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রী অধ্যাপক সমীর কুমার সাহুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিকার না পেয়ে তিনি প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন এবং দুই দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

পুরী: গত ১৯ জুলাই পুরীর বালাঙ্গা এলাকায় তিন বাইক আরোহী এক তরুণীকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই তরুণীরও মৃত্যু হয়।

এই লাগাতার ঘটনাগুলি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy