বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কি শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সরব হলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের রাজনীতির ‘হবু প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান। লন্ডনে বসে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের সঙ্গে আগামী দিনের সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত কৌশলী ও কড়া বার্তা দিয়েছেন।
তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের দাবি মেনে এবং আইনের শাসন কায়েম করতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “হাসিনার শাসনামলে যে অত্যাচার ও দুর্নীতি হয়েছে, তার বিচার হওয়া জরুরি।” তবে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা মাথায় রেখে তিনি এও জানান যে, কোনো বিশেষ দেশের প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূস সরকার যেখানে আইনি জটিলতায় থমকে আছে, তারেক সেখানে সরাসরি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের কৌশল নিতে চাইছেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তারেক রহমানের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, ভারত একটি বড় প্রতিবেশী দেশ এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। একইসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার সঙ্গেও সুসম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী তিনি। তারেক রহমানের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, তিনি ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে চলেছে। দিল্লির নিরাপদ আশ্রয় থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো কি আদৌ সম্ভব? তারেক রহমানের এই আত্মবিশ্বাসী সুর এখন ঢাকার রাজপথ থেকে দিল্লির সাউথ ব্লক— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।