বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় ক্রমশই জোরালো হচ্ছে ‘সুপারি কিলিং’-এর তত্ত্ব। মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় যেভাবে গাড়ি আটকে চন্দ্রনাথকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে, তার পরতে পরতে পেশাদারিত্বের ছাপ দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কোনও ভাড়াটে শার্প শ্যুটারের হাত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথের গাড়িটিকে দীর্ঘক্ষণ ফলো করছিল। একটি নিশান (NISSAN) গাড়িতে চেপে ঘাতকরা দোহারিয়া শৈলেশ নগরের পেয়ারা বাগান এলাকায় ওত পেতে বসেছিল। চন্দ্রনাথের গাড়িটি ওই নির্জন এলাকায় ঢোকামাত্রই ঘাতকদের গাড়িটি সেটির পথ আটকে দাঁড়ায়। এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব। স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে একের পর এক প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, আততায়ী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত নিশানায় চন্দ্রনাথের বুক, পেট এবং মাথা লক্ষ্য করে ৪টি গুলি চালায়। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চালানো এই গুলিতে চন্দ্রনাথের বাঁচার কোনও সুযোগই ছিল না। বাদ যাননি গাড়ির চালকও, তাঁর গায়েও ৩টি গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের ঘটনায় কোনও স্থানীয় ব্যক্তি বা অন্তর্ঘাত জড়িত থাকতে পারে। কারণ, এলাকার রাস্তাঘাট এবং অলিগলি সম্পর্কে ঘাতকদের স্বচ্ছ ধারণা ছিল। পেয়ারা বাগান থেকে অপারেশন শেষ করে খুনিরা গঙ্গানগর হয়ে রাজারহাটের দিকে চম্পট দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সেই পালানোর রুট নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘাতকদের এই নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট এবং পালানোর ছক দেখে গোয়েন্দাদের ধারণা, আগে থেকেই দীর্ঘ রেইকি করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।





