শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে রদবদল! প্রথম দফায় কার হাতে কোন দপ্তরের চাবিকাঠি? তালিকা দেখে চোখ কপালে আমজনতার!

শনিবারের রাজকীয় শপথ গ্রহণের পর এবার প্রশাসনিক রাশ আরও শক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রিসভার প্রথম দফার দপ্তর বণ্টন সেরে ফেললেন তিনি। সোমবার নবান্ন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শপথ নেওয়া প্রথম পাঁচজন মন্ত্রীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো ভাগ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাওয়ার করিডোরে কারা? শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যে পাঁচজন সদস্য রাজভবনে শপথ নিয়েছিলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই বন্টন করা হয়েছে মন্ত্রিত্ব। সূত্রের খবর, দপ্তর নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী ‘সুশাসন’ এবং ‘দ্রুত পরিষেবা’— এই দুটি বিষয়কে পাখির চোখ করেছেন। এক নজরে দেখে নিন কোন মন্ত্রীর হাতে এল কোন দপ্তরের ভার:

  • শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী): স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের রাশ সরাসরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

  • অর্জুন সিং: উত্তর ২৪ পরগনার এই দাপুটে নেতাকে দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও সেচ দপ্তর। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।

  • হিরণ চট্টোপাধ্যায়: চলচ্চিত্র জগত থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা হিরণকে দেওয়া হয়েছে পর্যটন ও যুব কল্যাণ দপ্তর। রাজ্যের পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার মিশন তাঁর।

  • অগ্নিমিত্রা পাল: মহিলা সুরক্ষা এবং সামাজিক কল্যাণের কথা মাথায় রেখে তাঁকে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • মিহির গোস্বামী ও বঙ্কিম ঘোষ: এই দুই হেভিওয়েট নেতাকে যথাক্রমে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামের মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে তাঁদের প্রধান কাজ।

কাজের ডেডলাইন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী দপ্তর বণ্টনের পরেই মুখ্যমন্ত্রী সব মন্ত্রীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্রেফ লাল বাতি লাগানো গাড়ি চড়া মন্ত্রীদের কাজ নয়; বরং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করতে তাঁদের দুয়ারে পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি দপ্তরকে আগামী ১০০ দিনের একটি ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

পরবর্তী দফার ইঙ্গিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম দফায় ছোট আকৃতির মন্ত্রিসভা গড়ে শুভেন্দু অধিকারী আসলে স্বচ্ছতা ও গতির বার্তা দিতে চাইলেন। খুব শীঘ্রই মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় দফার সম্প্রসারণ হতে পারে এবং সেখানে আরও বেশ কিছু নতুন মুখ ও জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব দেখা যেতে পারে।

নতুন সরকারের এই পাওয়ারফুল টিম কি পারবে বাংলার প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্টে জানান। নবান্নের প্রতিটি মুহূর্তের খবরের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy