শুটিং সেটে বড় নায়কদের বিছানায় যাওয়ার প্রস্তাব? বলিউডের ‘ডার্ক সাইড’ ফাঁস করলেন সলমনের নায়িকা!

রুপোলি পর্দার যে গ্ল্যামার দেখে সাধারণ মানুষ মোহিত হন, তার আড়ালে কি শুধুই অন্ধকার? ফের একবার বলিউডের সেই কদর্য রূপটি সামনে নিয়ে এলেন সলমন খানের প্রাক্তন এক নায়িকা। কাস্টিং কাউচ থেকে শুরু করে ক্ষমতার অপব্যবহার— বি-টাউনের অন্দরমহলে নারীদের ঠিক কতটা আপস করতে হয়, তা নিয়ে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।

কী এই ‘ডার্ক সাইড’? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওই অভিনেত্রী দাবি করেন, বলিউডের তথাকথিত ‘পাওয়ারফুল’ বা প্রভাবশালী নায়কদের সন্তুষ্ট না করলে কাজের সুযোগ মেলা কঠিন। তাঁর কথায়, “শুটিং সেটে বা বাইরে বড় নায়কদের খুশি করার জন্য অনেক সময় অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এমনকী প্রভাবশালী হিরোদের সামনে দু’পা ছড়িয়ে বসা বা তাঁদের কুপ্রস্তাবে রাজি হওয়ার মতো মানসিক চাপও তৈরি করা হয়।”

প্রতিষ্ঠিতদের ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াই: অভিনেত্রীর দাবি অনুযায়ী, নতুন বা স্ট্রাগলিং অভিনেত্রীদের ওপর এই চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। যদি কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, তবে তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে একঘরে করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তিনি জানান, অনেকেই কাজ হারানোর ভয়ে মুখ খোলেন না, কিন্তু দিনের পর দিন এই গুমোট পরিবেশের শিকার হন বহু প্রতিভাবান শিল্পী।

কেন এখন সরব হলেন তিনি? সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ছিলেন, তখন অনেক কিছু না বুঝলেও এখন তিনি আত্মবিশ্বাসী। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি চান নতুন মেয়েরা যাতে এই ফাঁদে পা না দেন। সলমন খানের সঙ্গে কাজ করার সময় এবং পরবর্তী কেরিয়ারের নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হিসেবে তাঁর এই মন্তব্য এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

নড়েচড়ে বসেছে বি-টাউন: ইতিমধ্যেই এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, নামজাদা প্রযোজক ও নায়কদের উপস্থিতিতে কীভাবে একজন অভিনেত্রীকে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়? যদিও এই নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও কোনো বড় অভিনেতা বা প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে এই অভিনেত্রীর সাহসী স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দিল, হেশট্যাগ মি-টু (#MeToo) আন্দোলনের পরেও বলিউডের অন্দরমহলের নোংরা ছবিটা খুব একটা বদলায়নি।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy