পশ্চিম এশিয়ার ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তখন ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামীকাল শুক্রবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ নজর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর।
নবান্ন সূত্রে খবর, বঙ্গে এখন নির্বাচনী আবহাওয়া। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গ সফরে থাকবেন এবং সেখানে তাঁর একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এই ব্যস্ত সূচির কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যসচিব অথবা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের জেরে দেশে যেন কোনোভাবেই জ্বালানি সংকট বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না ঘটে, তা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে সতর্ক করতে পারেন যাতে কেউ এই সুযোগে কালোবাজারি না করতে পারে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে রাজ্যের নির্বাচনী লড়াই—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকে যোগ দেন কি না, নাকি বিরোধী স্বর বজায় রাখতে প্রতিনিধি পাঠান, সেটাই এখন দেখার।