পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পের মানচিত্রে ফের শীর্ষে তুলে আনতে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘শিল্পের অভাব ও কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব’-এর বদনাম ঘোচাতে তৎপর বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি দিল্লির বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলাপচারিতায় রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরির ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শিল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে বিনিয়োগের অভাব এবং কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরব শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মোদীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলোর বেহাল দশা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলার শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কেন্দ্র সরকার বদ্ধপরিকর। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের সুবিধা যাতে রাজ্য সঠিকভাবে পায়, তার জন্য শুভেন্দুকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মোদী।
কীভাবে সাহায্য করবে কেন্দ্র?
বিনিয়োগকারী আকর্ষণ: রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: দুর্গাপুর-আসানসোলসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়ন: স্থানীয় যুবকদের জন্য জাতীয় স্তরের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Skill Development) খোলার প্রতিশ্রুতিও মিলেছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবিকে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেওয়ায় রাজ্য বিজেপির অন্দরে বড় বার্তা গেল। রাজ্যে পরিবর্তনের রাজনীতির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ‘শিল্প ও কর্মসংস্থান’-কেই সামনে রেখে আগামী দিনে এগোতে চাইছেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যক্ষ আশ্বাস বাংলার রাজনীতির সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা—শিল্পাঞ্চলগুলোতে আবারও চাকা ঘুরবে, কর্মসংস্থান হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির মধ্যে শিল্পোন্নয়ন নিয়ে নতুন কোনো সহযোগিতার বাতাবরণ তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে এখন কৌতুহলী রাজনৈতিক মহল।
শিল্পায়নের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসকে আপনি কি নিছকই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন, নাকি এর বাস্তবায়নে বাংলার শিল্পক্ষেত্রে সত্যিই কোনো জোয়ার আসতে পারে বলে মনে করেন?





