পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য সরকার। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে শিল্পের জোয়ার ফেরাতে এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে বিশেষ রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী থাকছে এই নতুন রোডম্যাপে? মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলের পুরনো কারখানাগুলির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্পস্থাপনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো:
বিকল্প কর্মসংস্থান: ভারী শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পের প্রসারে নজর দেওয়া হচ্ছে।
নতুন বিনিয়োগ: শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ টানতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশেষ ছাড় ও আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দক্ষতা উন্নয়ন: স্থানীয় যুবকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Skill Development Centre) খোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তাঁরা নতুন শিল্পে কাজ পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠতে পারেন।
জমি ও পরিকাঠামো: শিল্প স্থাপনের জন্য দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে জটমুক্ত জমি ও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহের আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত শুরু হবে।
কেন এই উদ্যোগ? একসময়ের ভারতের ‘রুর’ খ্যাত এই শিল্পাঞ্চল গত কয়েক দশকে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। অনেক ভারী শিল্প ধুঁকছে অথবা বন্ধ হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন রোডম্যাপ আদতে সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লড়াই। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ যাতে ঘরের কাছে কর্মসংস্থান পান, সেটাই তাঁদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এই ঘোষণার ফলে শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোয় এই পরিবর্তন আগামী দিনে বাংলার অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
শিল্পাঞ্চলের এই নতুন প্রকল্প সম্পর্কে আপনি কি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের (দুর্গাপুর বা আসানসোল) শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান?





