শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি বিভ্রাট: জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে সরাল নবান্ন, আলাপন কাণ্ডের স্মৃতি ফিরল বঙ্গ রাজনীতিতে

 

গত শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু তাঁর সেই সফরকে কেন্দ্র করে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটল দুই শীর্ষ আমলার অপসারণে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া সুপারিশ মেনে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণিশ মিশ্রকে সরিয়ে দিয়েছে নবান্ন। একইসঙ্গে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরের ওপরও নেমে এসেছে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের খাঁড়া। এই ঘটনা ২০২১ সালের আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় পর্বের স্মৃতিকে আরও একবার উসকে দিল।

বিতর্কের মূলে কী? গত ৭ মার্চ শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। প্রথমে অনুষ্ঠানটি ফাঁসিদেওয়ার সন্তোষিনী স্কুল ময়দানে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তা বাগডোগরার গোসাইপুরে সরিয়ে আনা হয়। খোলা মঞ্চ থেকেই এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বোন’ সম্বোধন করার পরেও কেন তাঁকে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে? এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রপতির অপমান’ বলে সরব হয় বিজেপি।

নবান্নের পিছু হঠা ও রদবদল: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে রিপোর্ট তলব করে। কিন্তু রাজ্যের জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি দিল্লি। এরপরই দুই আধিকারিককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানোর নির্দেশ দেয় অমিত শাহের মন্ত্রক। শুক্রবার নবান্ন থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণিশ মিশ্রকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের নতুন জেলাশাসক হয়েছেন সুনীল আগরওয়াল। পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরের ভবিষ্যৎ নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে প্রশাসন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “রাষ্ট্রপতির অপমান দেশের অপমান। কেন্দ্রীয় তদন্তে স্পষ্ট যে রাজ্য প্রশাসন প্রোটোকল ভেঙেছে।” অন্যদিকে, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য নেতৃত্বই নেবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এই প্রশাসনিক রদবদল শাসকদল তৃণমূলের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে দুই আমলার এই ‘শাস্তি’ আমলাতন্ত্রের অলিন্দেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy