দিল্লি ও উত্তর প্রদেশ সহ গোটা দেশের সমতল অঞ্চল যখন তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে, তখন জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। আর্দ্রতাজনিত অসহ্য অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এখন পাহাড়কেই একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। আর সেই কারণেই হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পর্যটন দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন ২০,০০০-এর বেশি পর্যটক হিমাচলের মনোরম আবহাওয়া উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন।
জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র দহন থেকে বাঁচতে শিমলা, মানালি, ধরমশালা, চম্বা, ডালহৌসি এবং লাহুল-স্পিতির মতো জনপ্রিয় গন্তব্যগুলিতে ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, হিমাচলের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিক বা তার চেয়েও কম রয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ। বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ আর হিমেল বাতাস উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, এমনকি বিদেশ থেকেও বহু মানুষ হিমাচলে ছুটে আসছেন। পর্যটকদের এই বিপুল সমাগমে স্থানীয় হোটেল, গেস্ট হাউস এবং হোমস্টেগুলির ব্যবসায়িক অবস্থা এখন তুঙ্গে। স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের এই জোয়ার এক বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে পর্যটকদের এই অস্বাভাবিক ভিড়ের ফলে শিমলা শহরে যানজট এখন বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ দিনে শিমলায় ৭৮ লক্ষেরও বেশি গাড়ি প্রবেশ করেছে। শুধু তাই নয়, গত সপ্তাহে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৭০ হাজার যানবাহন শহরে এসে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমাচল পুলিশ বিশেষ ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি বা পরামর্শ জারি করেছে।
শিমলার এএসপি অভিষেক পর্যটকদের উদ্দেশে জানিয়েছেন যে, যানজট কমাতে এবং পর্যটকদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে শিমলা শহরের ওপর দিয়ে না গিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করা উচিত। তিনি বলেন, কুফরি, মাশোবরা, নালদেহরা, নারকান্দা, হাট্টু পিক, ফাগু ও তত্তাপানির মতো গন্তব্যে যেতে ইচ্ছুক পর্যটকদের জন্য শোগি থেকে মেহলি-ধাল্লি বাইপাস ব্যবহার করা অনেক বেশি সুবিধাজনক। এতে শহরের যানজট যেমন কমবে, তেমনই পর্যটকরা জ্যামে না পড়ে সরাসরি তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। তীব্র গরম থেকে মুক্তি পেতে পাহাড়ের এই শান্তি ও শীতলতাকে আলিঙ্গন করতে পর্যটকদের যে উৎসাহ, তা আগামী দিনে হিমাচলের পর্যটন শিল্পকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।





