শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন কি বিশ বাঁও জলে? পুলিশের মারে রক্তাক্ত বিহারের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী!

বিহারে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজধানী পাটনা এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। শুক্রবার বিকেলে বিপিএসসি (BPSC) টিআরই ৪.০-এর হাজার হাজার পরীক্ষার্থী নিয়োগের বিজ্ঞাপনের দাবিতে রাজপথে নামলে পুলিশ তাঁদের ওপর নৃশংসভাবে লাঠিচার্জ করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে বহু পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন; কারও মাথা ফেটেছে, আবার কারও পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নীতীশ সরকারের নতুন মেয়াদের শুরুতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কেন এই ছাত্র বিক্ষোভ?
বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগের তির মূলত বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রার্থীদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে রীতিমতো ‘প্রতারণা’ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১৬ই এপ্রিল বিপিএসসি-র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক একটি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন যে, ৩-৪ দিনের মধ্যেই টিআরই ৪.০-এর বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হবে এবং ২৫শে এপ্রিল থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু আজ ৮ই মে হয়ে গেলেও পোর্টালে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি নেই। অনেক প্রার্থী জমি বন্ধক রেখে বা লোন নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগে এই অনভিপ্রেত বিলম্ব তাঁদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তাঁরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৪৬,৫৯৫টি পদ পূরণ করার কথা ছিল।

মিছিল ঘিরে ধুন্ধুমার পাটনায়:
এদিন কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী পাটনা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে এক বিশাল ‘প্রতিবাদ মিছিল’ শুরু করেন। মিছিলটি গান্ধী ময়দানের জেপি গোলম্বরে পৌঁছালে পুলিশ ভারী ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। উত্তেজিত ছাত্রছাত্রীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাসের শেলও তৈরি রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পাটনা এসএসপি কার্তিকেয় শর্মার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। লাঠিচার্জের ফলে তৈরি হওয়া পদদলিত পরিস্থিতিতে অনেক ছাত্রছাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন, যার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ছাত্রনেতা দিলীপ কুমার পুলিশের এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন।

চাপে নতুন শিক্ষামন্ত্রী:
মাত্র গতকাল শপথ নেওয়া বিহারের নতুন শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির সামনে এটিই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি বলেন, “টিআরই ৪.০-এর শূন্যপদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক চলছে এবং খুব শীঘ্রই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যারা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।” তবে মন্ত্রীর আশ্বাসে চিঁড়ে ভেজে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy